অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানোর জন্য জেলখানা থেকে শেখ হারুন কয়েক দফা চিরকুটও পাঠিয়েছেন শিক্ষকদের কাছে। তারা রাজি না হওয়ায় তার স্ত্রীকে দিয়ে চাপ দিয়ে এ মানববন্ধন করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান।
জানা গেছে, গত ২২ মে জেলা শহরের ল’ইয়ার্স কলোনির ভাড়া বাসা থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ শেখ হারুনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করছে শেখ হারুনের সহধর্মীনী শিরিন আক্তার, বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকরা। শেখ হারুন বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে শেখ হারুনের মুক্তি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করার দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে।
বুধবার মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শেখ হারুনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার, স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবদুল করিম মিয়াজি, অভিভাবক নুরুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ ও রায়হান হোসেনসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র দেবনাথ মোবাইলফোনে বলেন, ‘আমি মানববন্ধন করতে নিষেধ করেছি। তবুও শিরিন আক্তার জোরপূর্বক আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করেছে। তাছাড়া ওই দিন আমি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলাম।’
শেখ হারুনের মুক্তির দাবিতে প্রচারিত পোস্টারে বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকবৃন্দ উল্লেখ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত করে বরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানসহ জড়িত অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’