রাঙামাটির বনরূপা বাজারে আম বিক্রি করতে আসা কিরণ চাকমা বলেন, ‘আগে আমরা জুম চাষ করতাম। দীর্ঘস্থায়ী ফলনের আশায় আমরা আম চাষ শুরু করেছি। জুম চাষের চেয়ে এটি লাভজনক এবং স্থায়ী ফসল। আমার প্রায় তিনশ’ গাছ আছে। এসব গাছ থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার আম বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’
শহরের সাপছড়ির বোদিপুর এলাকার আম চাষি হেমন্ত চাকমা বলেন, ‘আমি আগে ফুরমোন টিলায় জুম চাষ করতাম। তবে তা দিয়ে আমার পরিবারের কিছুই হতো না। তাই ২০১৫ সালে আমার টিলায় আমি মিশ্র ফলের বাগান করি। এখন পর্যন্ত আমি ২৫০ মণের মতো আম বিক্রি করেছি, যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। আরও ১০০ থেকে ১৫০ মণ আম বাগানে আছে।’
রাঙামাটি কৃষি বিভাগের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, ‘জুম পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যগত ফসল হিসেবে পরিচিত। আগে জুম চাষে প্রচুর ফলন পাওয়া গেলেও দিন দিন ফলন কমছে। এর ফলে পাহাড়িরা ফলের বাগান চাষে ঝুঁকছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আদা ও হলুদ চাষ। এতে কৃষক লাভবানও হচ্ছে। বর্তমান হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আগের চেয়ে জেলায় ফলের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে।’