হরিসভা এখানকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ দাস (৫০) বলেন, ‘গত কয়েক বছরই বিভিন্ন সময় এ এলাকায় নদী ভাঙে। এখন পানির ঘূর্ণিপাকে এখানকার অনেক ব্লক সরে গেছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরের পরে হঠাৎ করেই ওই এলাকায় মেঘনায় ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যায়।
তাদের অভিযোগ, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতি এবং কাজের অনিয়মের কারণে এই সমস্য দেখা দিয়েছে। সরকার এতগুলো টাকা খরচ করে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধ দিয়েছে। অথচ কয়েক বছরের মাথায় এর বিভিন্নস্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে।
চাঁদপুর পৌর ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়ের মিজি জানান, হরিসভা মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুর মোহাম্মদ বকাউলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই‘শ মিটার এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এখান দিয়ে ঘূর্ণিস্রোত কেবল পাক খাচ্ছে এবং নদীও অনেক গভীর। বিষয়টি পৌরমেয়রকে জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ভাঙনস্থান পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি ওই কাজের সহকারী হুমায়ুন কবির জানান, গত দু’দিনে নৌকাযোগে ৩৬০টি ব্লক ভাঙন কবলিত স্থানে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই স্থানটিতে প্রায় ১২ বছর আগে ভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে আর কাজ করা হয়নি। বর্তমানে ভাঙনরোধে আপাতত ওই স্থানের সিসি ব্লক ফেলার প্রক্রিয়া চলছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার হরিসভা এলাকায় বাঁধে ধস দেখা দেওয়ার পরপরই আমরা সেখানে যাই। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্লক ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সাখুয়া হতে স্টকে থাকা আমাদের ব্লকের কিছু অংশ এনে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে ফেলার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া দু-একদিনের মধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হবে। বাঁধ নিয়ে বড় ধরনের ভয়ের কোনও কারণ নেই।’
তিনি জানান, ২০০৫-০৬ সালের পর থেকে বাঁধের জন্য কোনও বাজেট নেই। দীর্ঘ দিন ধরে এখানে কোন কাজ না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।