ডাস্টবিনে রঙ-তুলির আঁচড়ে পরিচ্ছন্নতার বার্তা

কুমিল্লায় ডাস্টবিন রং করা হচ্ছে

শহর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিনব এক আন্দোলন করছেন কুমিল্লার এক দম্পতি। ডাস্টবিন চিত্রায়ানের মাধ্যমে শহর পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে নেমেছেন তারা। লক্ষ্য ডাস্টবিনের দেয়ালে এই চিত্রায়ানের মাধ্যমে নগরবাসী ময়লা আবর্জনাগুলো বাহিরে না ফেলে যেন ডাস্টবিনে ফেলবে।

কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার গেলেই দৃশ্যটি চোখে পড়বে।  মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে ডাস্টবিনের গায়ে তুলি দিয়ে পঙ্গীরাজ ঘোড়ায়সহ নানা রঙের ছবি এঁকে যাচ্ছেন এই দম্পতি।

কুমিল্লার ছেলে জুনায়িদ মোস্তফা। এই শহরে তার বেড়ে উঠা। শৈশবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আবাসিক শহর হিসেবে দেখেছেন কুমিল্লাকে। সেই কুমিল্লা এখন অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। তাই শহরকে পরিষ্কার রাখতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে তার স্ত্রী জানভীকে নিয়ে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নেমে পড়েন।

কুমিল্লায় ডাস্টবিন রং করা হচ্ছে

পেশায় বিজ্ঞাপন নির্মাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র জুনায়িদ মোস্তফা বলেন,‘আমার বাবা সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তাকে দেখেছি,সাংবাদিকতার পাশাপাশি ‘ঘরের খেয়ে বসেন মোষ তাড়াতে।’ শিক্ষা চিকিৎসায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেই ধারা থেকে আমারও ইচ্ছে হলো শহরের জন্য কিছু করার। আমি আর কিছু পারি না, একটু আঁকতে পারি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে নেমে পড়ি। মানুষ যত্রতত্র এবং ডাস্টবিনের বাইরে ময়লা ফেলে শহরকে নোংরা করছে। আমি চাই ডাস্টবিনকে দৃষ্টিনন্দন করে দিলে মানুষ ডাস্টবিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে। বিশেষ করে আকাঁআঁকিতে উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করছি যেন নতুন প্রজন্মের নজরে পড়ে।  যেন তারাও পরিচ্ছন্ন শহরের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে।

এই কাজে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু,সাংস্কৃতিক সংগঠক নাজমুল হাসান পাখী, স্ত্রী জানভীসহ  কয়েকজন সৃজনশীল মানুষ পাশে এসে দাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুমিল্লায় ডাস্টবিন রং করা হচ্ছে

সাংস্কৃতিক সংগঠক নাজমুল হাসান পাখী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রম কাজ। তাদের মতো সবাকে নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সুন্দর রাখতে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন,শহরকে সুন্দর রাখতে তারা ডাস্টবিনে আর্ট করছেন এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সবাই এগিয়ে না এলে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা যাবে না। আমার অবস্থা থেকে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।