টেকনাফে ঘুরতে গিয়ে অপহরণের শিকার যুবক ৬ দিন পর উদ্ধার

উদ্ধার হওয়া আশিকুর রহমান সজিববন্ধুর আমন্ত্রণে কক্সবাজারের টেকনাফে ঘুরতে গিয়ে অপহরণের শিকার আশিকুর রহমান সজিবকে ছয় দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালি পাহাড় থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিক উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার হওয়া আশিকুর রহমান সজিব নারায়ণগঞ্জ জেলার সিন্দিরগঞ্জ থানার খোন্দকার মুজিবুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বন্ধু ডিপুর আমন্ত্রণে টেকনাফে ঘুরতে যায় সজিব। ১১ সেপ্টেম্বর বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে হ্নীলা রঙ্গিখালী গেটে পৌঁছালে ভুলু মাঝি ও ইলিয়াছ নামে দুই সন্ত্রাসী তাকে রিসিভ করে পাহাড়ের আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে রামদা ও অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ মুক্তিপণের টাকার জন্য সজিবকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেলে লাশ গুম হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অপহৃত সজিবের স্ত্রী কক্সবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপহরণকারীর মুঠোফোনের সূত্র ধরে এসআই শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত সজিবকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধারকৃত যুবককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,  সাবেক দুই ইউপি সদস্যসহ একাধিক দলের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে হ্নীলার আলীখালী, রঙ্গীখালী এলাকায় ইয়াবা, মানবপাচার, ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে  অপহরণকারীরা। এলাকার এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাও রয়েছে। সন্ত্রাসীদের কারণে এলাকায় চলছে ত্রাসের রাজত্ব। এ সব ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ঘটনার জম্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ওসি আতিক উল্লাহ বলেন, অপহরণকারীদের আটক করতে চেষ্টা করছে পুলিশ।