বান্দরবানের মিষ্টি কুমড়াবান্দরবানে প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬-৮ টাকার মধ্যে। আর প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে তিনশ টাকায়। বাম্পার ফলন হলেও কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে চাষিদের অভিযোগ। তাই হাসি নেই তাদের মুখে।
কৃষকরা জানান, এ বছর পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি কুমড়ার চাষ ও ফলন হয়েছে। ঠিক সময়ে বাজারজাতকরণের অভাবে অনেক মিষ্টি কুমড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঠিক দাম না পাওয়ায় চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ওয়াই জংশন এলাকার চিংক্লাং ম্রো বলেন, ‘আমি জুমের পাশাপাশি পাহাড়ের পাঁচ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। প্রচুর মিষ্টি কুমড়ার ফলনও হয়েছে। কিন্তু দাম একদম কম। প্রতি কেজি ৬ থেকে ৮টাকার মধ্যে। প্রতিমণ বিক্রি করছি মাত্র তিনশ টাকায়। এতে আমাদের পরিশ্রমের মূল্যও উঠছেনা। ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।’ চিংনু মং মারমা, হ্লাসিংনু মারমা, ক্যান্দুই ম্রোসহ আরও অনেক চাষির একই কথা। তাদের সবারই জমিতে অধিক মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হলেও কমদামে বিক্রি করার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে সবার।
বান্দরবানের মিষ্টি কুমড়াচট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বান্দরবানের মিষ্টি কুমড়া মিষ্টি ও সুস্বাদু। তারপরও এখান থেকে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের প্রায় চার থেকে সাড়ে চারশ টাকা খরচ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম নিয়ে ৫ থেকে ৫শ ২০ টাকায় মন বিক্রি করতে হচ্ছে। এরচেয়ে বেশি দামে ক্রয় করলে আমাদেরও লোকসান হবে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবানের পাহাড়ের বিভিন্ন জুম ক্ষেত ও রাস্তার পাশে গাছের মধ্যে সারি সারি মিষ্টি কুমড়া রয়েছে। আর কৃষকরা এসব মিষ্টি কুমড়া পাহাড় থেকে সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে জমিয়ে রাখছে বিক্রির আশায়।
বান্দরবানের মিষ্টি কুমড়াবান্দরবানের জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ে গতবছর মাত্র ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়। এবছর ৫৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার মেট্রিকটন। যা গত বছরের তুলনায় কয়েকগুন বেশি। পাহাড়ের মাটিতে মিষ্টি কুমড়াই নয়, অন্যান্য ফসলেরও ভালো ফলন হচ্ছে। এছাড়া বছরে দুই বার ফলন হওয়ায় প্রায় সারাবছরই পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। তবে, ফলন বেশি হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় চাষিরা ঠিক মতো দাম পাচ্ছেন না।’ তিনি জানান, বান্দরবানের পাহাড়ে সম্প্রতি জুম চাষের সঙ্গে বাড়ছে ভুট্টা, চাল কুমড়া, চিনা, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ধরনের সবজির চাষ। আর পাহাড়ের মাটি রসালো হওয়ায় এসব সবজির বাম্পার ফলন হচ্ছে।