মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন- রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের তানজিল হৃদয় এবং একই বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নাফি। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন এর কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলগেট এলাকায় একটি দোকানে বসে নাস্তা করছিলেন হৃদয় এবং নাফি। তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় স্থানীয় মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু গ্রুপের কয়েকজন কর্মীর। একপর্যায়ে মঞ্জু গ্রুপের কর্মীরা শিক্ষার্থী দুজনকে মারধর করে। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রায় একঘণ্ট ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় তারা দুটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সার কাঁচ ভাঙচুর করেন। পরে শাহজালাল হলের সামনের একটি খাবারের দোকানের মালিকের ছেলে এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দোকানে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার কারণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, একঘণ্টা ফটক অবরোধের পর দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুই ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা।
খাবারের দোকানে তালা লাগানোর বিষয়ে দোকানের মালিক মো. খলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলে কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। আমার ছেলে এইবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার ছেলেকে রাজনীতি করতে বাধ্য করে। সে রাজী না হওয়ায় আমার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং নাছির ভাইয়ের কর্মীরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় কোনোভাবে আমার গ্রুপের সম্পৃক্ততা নেই।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনছুর আলম বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছি। যদি দোষীদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আক্তারউজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হওয়ায় এক ঘণ্টা প্রধান ফটক আটকে রাখে ছাত্রলীগের কর্মীরা।