মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে রোহিঙ্গাসহ দুইজন আহত

টেকনাফ



মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে রোহিঙ্গাসহ দুইজন আহত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়ার রহমতের বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন।

আহতরা হলেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১-এর বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে নুরুল ইসলাম (১৮) ও স্থানীয় জয়নাল আবেদিন (১৩)। তাদের উখিয়ার কুতুপালং রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত বছর আগস্টের শেষে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে রোহিঙ্গা যুবক নুরুল ইসলাম পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারের পালিয়ে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু চরাতে গিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বিজিপি’র গুলিতে রোহিঙ্গাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীমান্ত লাগোয়া উখিয়ার বালুখালীর রহমত বিল এলাকার স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রাখাল হিসেবে কাজ করে রোহিঙ্গা যুবক নুরুল ইসলাম। তিনিসহ স্থানীয় যুবক জয়নাল আবেদিন প্রতিদিনের মতো আজও (রবিবার) সীমান্ত এলাকায় গরু চরাতে যায়। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তাদের গুলি করে। এতে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বিজিপি। পরে গুলিবর্ষণ থামলে তাদের উদ্ধার করে উখিয়ার রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হঠাৎ বিজিপির গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি তদন্ত খায়রুজ্জামান বলেন, গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কারা এবং কেন গুলি চালিয়েছিল।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল জানান, উখিয়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ওপার থেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি কয়েক দফা গুলি চালিয়েছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের উখিয়ার কুতুপালং রেডক্রিসেন্ট ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’