চুক্তির জন্য সচল হয়েছে স্থবির অর্থনীতি

জুম চাষশান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষ হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের কাছে সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে শান্তি বাহিনী। শুরু হয় পাহাড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।দুই দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে ফিরে আসে কর্মচাঞ্চল্য, সচল হয় অর্থনৈতিক চাকা।

হানাহানির কারণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে  তেমন কোনও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। কিন্তু চুক্তির পর পাহাড়ের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানান উদ্যোগের কারণে সৃষ্টি হয় কর্মসংস্থান। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা শঙ্কা দূর হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসে। পাশাপাশি স্বস্তি ফিরে আসায় পাহাড়ের মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স-এর প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চুক্তির কারণে পাহাড়ে স্থবিরতা কেটে গেছে। আগে যেখানে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতো সেখানে বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারের আয়ও ১০ গুণ বেড়েছে।

প্রবীণ সংবাদকর্মী সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘চুক্তির পরে পার্বত্য অঞ্চলে সবার মাঝে আর্থিক স্বচ্ছলতা বিরাজ করার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে আমরা পুরোপুরি পৌঁছুতে পারিনি।’

চুক্তির কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কতিপয় ব্যক্তির উন্নতিতে অর্থনৈতিক সচলতা এসেছে-এমনটা মানতে নারাজ চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। তিনি বলেন, ‘চুক্তির আগে গ্রামের মানুষগুলো কেমন ছিল আর সেই গ্রামে মানুষ এখন কেমন আছে তা দেখলেই বোঝা যাবে পাহাড়ে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। আবার রাস্তাঘাট, বড় বড় দালান কোটা হয়েছে বলেই বলা যাবে না অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে।’

সংরক্ষিত আসেনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন,  ‘আমরা পাহাড়ে যে ব্যাপক উন্নয়ন দেখেছি তা দৃশ্যমান। এখানকার অর্থনৈতিক চাকা চুক্তির আগের তুলনায় অনেক বেশি। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ দারিদ্রসীমার ওপরে বসবাস করছে চুক্তির ফলে সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো করার ফলে। চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো যদি অর্থনৈতিক চাকাটা আরও গতিশীল করা যেত। পাহাড়ে যেসব অবৈধ অস্ত্র আছে, সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা গেলে মানুষ আরও সাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারতো তাহলে অর্থনৈতিক অংকটা আরও বড় করে দেখা যেত।’

পাহাড়ের দীর্ঘ দুই দশকের সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতি বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সরকারের নানান উদ্যোগে এই অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া মানুষও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি ঘটবে এমনটাই স্বপ্ন দেখে এখানকার সাধারণ মানুষ।

 

আরও পড়ুন:
২১ বছরেও জনগণ জানে না চুক্তিতে কী আছে