চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে বিক্ষোভের ঘটনায় দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে থাকা একাধিক গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরকারি গাছ কেটে বিক্ষোভের ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই) সকালে অজ্ঞাত ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা বিএনপির কর্মী বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় পরে জানাবে বলেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সড়কের পাশে থাকা বেশ কিছু গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল কিছু লোক। গাছ কাটার অভিযোগে ৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেছে সওজ। এই মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের পরিচয় পরে জানানো হবে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন। রায় ঘোষণার পরপরই তার অনুসারীরা সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাট, বারবকুণ্ড, ভাটিয়ারী, কুমিরাসহ একাধিক স্থানে অবরোধ গড়ে তোলা হয়। এসব স্থানে সড়কের পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে মহাসড়কের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কের দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন আধুনিক মোটরচালিত কাটার যন্ত্র নিয়ে আসেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক গাছ কেটে মহাসড়কে ফেলে দেওয়া হয়। কোথাও গাছের মোটা ডাল, কোথাও সম্পূর্ণ গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়। এতে শুধু যান চলাচলই ব্যাহত হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা অসংখ্য গাছও বিনষ্ট হয়েছে।
এরই মধ্যে সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটার একাধিক ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুতগতির কাটার যন্ত্র দিয়ে সড়কের পাশের গাছ একের পর এক কেটে ফেলছেন। এতে করে সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর তার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেন। পরে তার আপিল মঞ্জুর করে মঙ্গলবার রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ







