বর্তমান এমপি জিয়াউল হক মৃধা এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান। মহাজোট তাকে সমর্থন না দিয়ে এই আসনে এরশাদের যুববিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াকে লাঙলের প্রার্থী মনোনীত করে। এতে করে জামাইয়ের বিরুদ্ধে সিংহ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। তবে নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে শ্বশুর অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান রেজাউল ইসলাম ভূইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘নির্বাচনে আমাকে মহাজোট থেকে এখানে লাঙলের প্রার্থী করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলাম। কিন্তু মহাজোটের আসন্ন জয়কে একটি কুচক্রি মহল বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে। ষড়যন্ত্র করছে। তাদের কারণেই আমি সরে দাঁড়িয়েছি।’
প্রার্থিতা নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল ইসলাম ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘পারিবারিকভাবে উনার (জিয়াউল হক মৃধা) সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। তবে, মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিকভাবে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আজকের পর থেকে সেটি আর থাকলো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে শ্বশুরের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা ছিল। তার সঙ্গে আমি নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে ছিলাম। এজন্য ভেবেছিলাম, সরাইলের মানুষের জন্য কিছু একটা করবো। এজন্যই প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনসমর্থনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এই মুহূর্ত থেকে শ্বশুরের পক্ষে কাজ করবো।’
এদিকে নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘সরাইল-আশুগঞ্জে নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র, ভানুমতীর খেলা চলছে। এই খেলার অবসান ঘটানোর জন্যই আজ থেকে মহাজোট শক্তিশালী হলো। আমরা সরাইল-আশুগঞ্জকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে, সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করবো। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আমার জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূইয়াকে অভিনন্দন জানাই।’
এসময় তিনি জামাতার বিরুদ্ধে তিক্ততাপূর্ণ কথাবার্তা প্রত্যাহার করে বলেন, ‘আমরা (শ্বশুর-জামাতা) বুঝতে পেরেছি, পানি কাটলে ভাগ হয় না, রক্ত কাটলেও দুইভাগ হয় না। এজন্যই আমরা আজ পারিবারিকভাবে মিলিত হয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলম সাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান রতন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন মন্তু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী প্রমুখ।
এদিকে এই আসনে মহাজোট প্রার্থী কে এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে- সেব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জানান, ‘এই আসনে শুনেছি জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। তবে এই আসনে মহাজোট প্রার্থী কে তা আমরা জানি না। আমাদের কেন্দ্রীয়ভাবেও কেউ জানায়নি। বলা যায় এই আসনটি উন্মুক্ত।’
এদিকে গত ১৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচ জনকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোট থেকে কাউকে মনোনীত করা হয়নি সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।