নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের এক গ্রামে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।
শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ঘটনার শিকার অসুস্থ গৃহবধূকে দেখতে যান বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় তারা এ দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাসপাতালে ওই গৃহবধূকে দেখে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন– সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশ চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের পলিট ব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক আব্দুর সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আকবর খান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী ও বাসদের (মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা মহিন উদ্দিন লিটনসহ অনেকে।
সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা ঘটনায় জড়িত মূল ইন্ধনদাতাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা, জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান। কোনও মহল যাতে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সেজন্য জনগণকে যুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তারা।
এদিকে, বিকালে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ওই গৃহবধূকে দেখতে যায়। এসময় তারা সংসদ সদস্যর পক্ষ থেকে ওই গৃহবধূর পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেন। এ ছাড়া, গৃহবধূর চিকিৎসার ব্যয়ভার, পরিবারের পুনর্বাসনের দায়িত্ব ও সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।
৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। তার স্বামী ও মামলার বাদীর অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীকে পাংখারবাজার ১৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দিতে দেখে হুমকি দেয়। পরে রাত ১২টায় কয়েকজন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরে ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাদের গালাগালি করে। অস্ত্র দেখিয়ে তার স্ত্রীকে ঘরের বাইরে নিয়ে যায় এবং সবাই মিলে ধর্ষণ ও বেদম মারধর করে। পরে ওই নারীকে গলা কেটে হত্যারও চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর পরদিন প্রতিবেশীদের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন ওই নারীর স্বামী।