শ্যালিকাকে ছুরিকাঘাতে খুনের দায়ে শাহ পরান নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আব্দুল হালিম এ রায় দেন। একই রায়ে শাহ পরানের ভগ্নিপতি মো. নাসিরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও একলাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পিপি আইয়ুব খান এ তথ্য জানিয়েছেন। শাহ পরাণ এবং নাসির দু’জনই পলাতক বলেও তিনি জানান।
আইয়ুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১০ সালের ১ এপ্রিল রাতে ফারহানা ইয়াসমিন নামে ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ছুরিকাঘাতে খুন করে দুই আসামি। সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাহ পরাণের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার পূর্ব হাসনাবাদ গ্রামে।
মামলার এজহারে বলা হয়, ২০০৯ সালে পশ্চিম হাসনাবাদ গ্রামের দেলোয়ারা বেগমের সঙ্গে শাহ পরাণের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাসের মাথায় শাহ পরান দেলোয়ারাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠায়। এরপর ডিভোর্স নোটিশ প্রত্যাহার করে শাহ পরান দেলোয়ারাকে পুনরায় ঘরে আনার চাপ দিলে দেলোয়ারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১০ সালে ১ এপ্রিল রাতে শাহ পরান তার ভগ্নিপতি নাসিরকে নিয়ে দেলোয়ারাকে হত্যা করতে তাদের বাড়িতে যায়। জানালা দিয়ে তারা দুই জন ঘরে প্রবেশ করলে দেলোয়ারার পাশে ঘুমানো তার ছোট বোন ফারহানা ইয়াসমিন চিৎকার শুরু করেন। তাকে থামাতে গিয়ে শাহ পরান ও নাসির তার মুখ চেপে ধরে তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে ফারহানা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। পরদিন ২ এপ্রিল এ ঘটনায় ফারহানার মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ভুজপুর থানায় দু’জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১৮ আগস্ট দু’জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরের বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।