লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম এবং প্রত্নতত্ব বিভাগের ১১তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যান শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান বিদ্যুৎ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল। একপর্যায়ে তারা রেশমীকে ইভটিজিং করার চেষ্টা করলে শরিফুল বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরিফকে মারধর করেন শাখা ছাত্রলীগের এ দুই নেতা। এতে শরিফের কপাল ফেটে রক্ত বের হয়। পরে আহত শরিফকে পাশের একটি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইভটিজিংয়ের শিকার ওই ছাত্রী নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের সক্রিয় ছাত্রলীগকর্মী।
মারধরের শিকার শরিফ বলেন, ‘হিমেল আমার এক ব্যাচ জুনিয়র। তাকে আমি ঠিকভাবে চিনিও না। বিদ্যুৎ ভাই আমাদের ডেকে নিয়ে যাওয়াতে আমরা তার সঙ্গে যাই। এর পরে হিমেল আমার সঙ্গে থাকা প্রত্নতত্ব বিভাগের ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে চাইলে বাধা দেই। এতে হিমেল আমার ওপর আক্রমণ করে। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর লিখিত দিয়েছি। ৭২ ঘণ্টার ভেতরে শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযুক্ত হাসান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি এবং ওই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে ছিল। তাকে আমি কীভাবে ইভটিজিং করবো? আমি তো তাকে বাঁচাতে চেয়েছি।’
কিন্তু বিদ্যুৎ কিছুক্ষণ পরে ফোনে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,‘শরিফ শিবির করে তাই আমরা দু’জন মিলে তাকে মারধর করেছি।’ এদিকে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত হিমেলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘মারধরের পর আমি ছেলেটিকে দেখে প্রাথমিক চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু ইভটিজিংয়ের বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না।’
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবো।’