জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী কারণে স্থায়ী ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৯১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন, চরাঞ্চলে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেকেই গাজীপুর, হাইমচর, নীলকমল ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেছেন, ‘সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। তারা পরিস্থিতি দেখছেন। আমরা মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করে যাচ্ছি। এছাড়াও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।’
জেলা ও ৮ টি উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা এবং ত্রাণ বিভাগের কর্মচারীদের ছুটি বাতিল এবং কর্মস্থল ত্যাগ না করতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনসমূহ (১৪৫০টি) আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় সাতটি সরকারি ও ২০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০০০ প্যাকেট শুকনা খাবারের মজুদ রাখা হয়েছে। ত্রাণ হিসেবে ৬২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৮৩ বান্ডিল টিন মজুদ রাখা হয়েছে। ঢাকাগামী সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ বিআইডব্লিউটিএ নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার কাজের জন্য রেডক্রিসেন্টের ৫০, রোভারের ৫০ জন ও স্কাউটের ৩৩০ জনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি নৌ থানা ও ৫টি নৌ ফাঁড়ির ৮১ জন নৌ পুলিশ সদস্য, কোস্টগার্ডের ৫০ জন সদস্য উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। দ্বীপ ইউনিয়নের লোকজনকে প্রয়োজনে সরিয়ে আনার জন্য ১৫০টি ট্রলার, ৬ টি স্পিডবোর্ড প্রস্তুত রাখা আছে। দু’টি উদ্ধারকারী নৌযান, ফায়ার সার্ভিসের ৮টি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার জেলার সব মসজিদে জুমার নামাজে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে ।