নুসরাত হত্যা: রিমান্ড শেষে কারাগারে শামীম ও জাবেদ

আদালতে নেওয়া হচ্ছে শামীম ও জাবেদকে (ছবি– প্রতিনিধি)

ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৪ মে) বিকাল পাঁচটার দিকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ধ্রুব জৈতি পাল তাদের কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মো. ইকবাল জানান, দুইদিনের রিমান্ড শেষে শামীম ও জাবেদকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২ মে দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইন আসামি শামীম ও জাবেদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৪ এপ্রিল নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় শামীম ও ২০ এপ্রিল জবানবন্দি দেয় জাবেদ।

উল্লেখ্য, নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।