অধ্যক্ষ সিরাজের অনেক অপকর্মের কথা আগে থেকে জানতাম: সাক্ষী নুরুল আমিন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনীফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদৌল্লাহর অনেক অপকর্মের কথা আগে থেকে জানতেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন চার নম্বর সাক্ষী নুরুল আমিন। বুধবার (৩ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আইনজীবীদের জেরাকালে তিনি এ কথা বলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ এবং বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, ‘চার নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিনের ও আসামি পক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার দারোয়ান মো. মোস্তফার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চার নুরুল আমিন দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন। পরে তাকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদদৌল্লাহর আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন ও আহসান কবির বেঙ্গলসহ আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।’

বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী নুরুল আমিন জানান, তিনি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌল্লার নির্দেশে ২৭ মার্চ সকালে নুসরাতকে ক্লাস থেকে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নেন। এর কয়েক মিনিট পর অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে-কাঁদতে বের হয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখেন। এছাড়া তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বহু অপকর্মের নীরব সাক্ষী ছিলেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন ও জেরাকালে স্বীকার করেন। 

আদালত সূত্র জানায়, ২৭ ও ৩০ জুন নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তি সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করে।

২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাতকে।