পরশুরাম ও ফুলগাজীর ১৫ গ্রাম প্লাবিত





প্লাবিত এলাকাটানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফুলগাজী উপজেলা সদরের মূল সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। দোকানপাট ও স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে পরশুরাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বুধবার (১০ জুলাই) সকালে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ২.৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন ধরেছে উল্লিখিত তিনটি নদী রক্ষা বাঁধের আটটি পয়েন্টে। ফাটল দেখা দেওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আরও বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্লাবিত এলাকাফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, মুহুরী নদীর ফুলগাজী বাজারস্থ গার্ড ওয়াল তলিয়ে যাওয়ায় বাজারের দোকানপাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া ফেনী-পরশুরাম সড়ক, ফুলগাজী সদরের মূল সড়কসহ উপজেলার কমপক্ষে সাতটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফুলগাজীর উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বরইয়া ও জয়পুর গ্রাম অংশে মুহুরীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, পুকুর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এগুলো ভেঙে আরও ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, ‘উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শালধরের কালা মেম্বার ও মোহসিন মেম্বারের বাড়ির পাশের দু’টি অংশে, উত্তর ধনিকুণ্ডার বধু মিঞার বাড়ি সংলগ্ন নোয়াপুর ও আলতু মিঞার বাড়ি সংলগ্ন অংশে মুহুরীর বাঁধ ভেঙে গেছে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহুরীর উত্তর শালধর, দক্ষিণ শালধর, উত্তর দৌলতপুর ও কিসমত ঘনিয়া মোড়াসহ চারটি অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

প্লাবিত এলাকাফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বুধবার ( ১০ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিপদসীমার ২. ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে মুহুরী নদীর পানি বয়ে চলেছে। এতে সীমান্ত নদী মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর কমপক্ষে আটটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে । বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাঁধের আরও বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’