খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ড. নয়নময় ত্রিপুরা বলেন, ‘এই পর্যন্ত তিন জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তারা যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি পুরো দেশে আলোচিত তাই রোগীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। আশা করছি সুস্থ হয়ে যাবে।’
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাগড়াছড়ি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজিস্ট (ল্যাব) সুশীল বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর টেস্ট করাতে আমাদের এখানে অনেক রোগী এসেছেন। গতকালও দুজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই সপ্তাহে মোট আট জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। ধীরে ধীরে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে পারে।’
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের রক্ত পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এর জন্য রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। সেখানে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৮০০, ১০০০, ১৫০০ টাকার ভিন্ন ভিন্ন ফি দিয়ে টেস্ট করাতে হচ্ছে রোগীদের।
সাইফুল ইসলাম নামে এক ডেঙ্গু রোগী বলেন, জ্বর নিয়ে আমি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে গেলে ডাক্তার আমাকে ডেঙ্গু জ্বর টেস্ট করতে বলেছেন। খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও নির্ণয়ের কোনও কিছু না থাকায় বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়েছে এবং বেশি টাকায় পরীক্ষা করাতে হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু নির্ণয়ের সুযোগ থাকলে ভালো হতো।
খাগড়াঠড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ঝিনু মারমা বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। এর জন্য যে ডিভাইস দরকার, সেটা আমাদের হাসপাতালে দেওয়া হয়নি। যার কারণে রোগীদের বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, খাগড়াছড়িতে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্তকরণ সামগ্রী নেই বললেই চলে। সঠিক চিকিৎসা ওষুধসহ অন্যান্য সামগ্রীও অপর্যাপ্ত।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো ম্যানেজ করার বিশেষজ্ঞ কোনও চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ডায়ালাইসিস সাপোর্ট লাগে আবার আইসিইউ সাপোর্ট লাগে, যা খাগড়াছড়িতে নেই। তারপরেও এসব রোগীদের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে করতে সরকার থেকে সব ধরনের সাপোর্ট চাওয়া হবে। প্রয়োজনে রোগীদের চট্টগ্রাম অথবা ঢাকায় রেফার্ড করতে হবে।