ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিরুলের বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশপ্রহরীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে তাকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে এসআই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনার পর সোমবার (৫ আগস্ট) পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আহত দফতরি মো. উবায়দুল্লা।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্য খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তারা বিদ্যালয়ের দফতরি উবায়দুল্লার রুমের দরজায় টোকা দেন। দরজা খোলার পর বশির নামে কেউ আছে কিনা জানতে চান এসআই। এ নামে স্কুলে কেউ নেই বলার পরও তারা উবায়দুল্লার পকেটে হাত দেন। কিছু না পেয়ে আবার বলেন, বাচ্চু নামে কেউ আছে? এরপর উবায়দুল্লাকে স্কুলের সব শ্রেণিকক্ষের দরজা খুলতে বলেন এসআই। আবার তারা উবায়দুল্লার পকেট চেক করার নামে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট পকেটে ঢুকিয়ে দেন। এরপরই জামিরুলকে এসআই বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করিস, আর কোথায়-কোথায় ইয়াবা আছে বল।’ এসব বলার পরই উবায়দুল্লাকে বেদম পেটাতে থাকেন জামিরুলসহ তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা। দুই কানে এবং মাথায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে উবায়দুল্লার বাবা ক্বারী নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসলে তাকে আটক করে সাদা কাগজে সই নেন এসআই।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবু তালেব আসার পর ২৫০০ টাকায় রফাদফা করার পর উবায়দুল্লা ও তার বাবাকে ছাড়া হয়। এ ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানালে মাদক মামলা ফাঁসানোরও হুমকি দিয়ে যায় জামিরুল।
ঘটনার পরদিন উবায়দুল্লাকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরীকে দেখানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, উবায়দুল্লার বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসা নিতে হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উবায়দুল্লা বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়াই পুলিশ অফিসার জামিরুল আমাকে মারধর করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে দফতরি কাম প্রহরি সমতির সভাপতি মাহবুব মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রোমান মিয়া বলেন, ‘উবায়দুল্লা আমাদের সহকর্মী। তাকে অন্যায়ভাবে পুলিশ নির্যাতন করেছেন। আমরা ন্যায় বিচার না পেলে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবো।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনা আক্তার বলেন, ‘উবায়দুল্লা পান, সিগারেট কিছুই খায় না। সে একজন ভালো লোক। রাতে দায়িত্ব পালনের সময় তার সঙ্গে পরিচয়পত্র ছিল। সে ওই সময় পুলিশ অফিসারকে দেখিয়েছিল। কিন্তু তিনি তারা কথা শোনেননি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই জামিরুল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। সবই ষড়যন্ত্র।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে এসআই জামিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’