পাহাড়ে জমি দখল করে বিলাসবহুল রিসোর্ট, জি কে শামীমের কোটি টাকা বিনিয়োগ

 

01বান্দরবানে পাহাড়ি জমি দখল করে বিলাসবহুল পর্যটন রিসোর্ট ‘সিলভান ওয়াই রি‌সোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিডেট” নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন ঢাকায় র্যা বের হাতে গ্রেফতার যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম।

জানা ‌গে‌ছে, বান্দরবান শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক সড়কের পাশে মিলনছ‌ড়িতে প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে বিলাসবহুল এই রিসোর্টটি নির্মাণে ব্যয় করা হ‌চ্ছে প্রায় ২০০ কো‌টি টাকা। রিসোর্টটির মালিকানায় র‌য়ে‌ছেন ৯ জন। এরম‌ধ্যে জি কে শামীম অন্যতম শেয়ার হোল্ডার।

জানা ‌গে‌ছে, প্রথম পর্যায়ে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ দিয়ে রিসোর্টের প্রাথ‌মিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্মাণ কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তায় একটি পুলিশ ক্যাম্পও করে দেওয়া হচ্ছে অংশীদার‌দের নিজস্ব অর্থায়নে।

অভি‌যোগ উঠেছে, মারমা, ত্রিপুরা, বমসহ স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রায় ক‌য়েক একর জমি দখলে নি‌য়ে এ রিসোর্টটি তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্য বান্দরবান জেলা প্রশাসন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

03প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের নিজ কার্যালয় থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র্যা ব। এসময় তার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, এফডিআর, মদ, অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে শামীমের সাত জন দেহরক্ষীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। এরপরই বান্দরবানের বিলাসবহুল রিসোর্টে জি কে শামীমের বিনিয়োগের খবরটি আলোচনায় উঠে আসে।
নির্মিতব্য ‘সিলভান ওয়াই রি‌সোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড’ রিসোর্টে জি কে শামীম ছাড়াও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই জসিম উদ্দিন মন্টু, ঢাকার ব্যবসায়ী ফজল করিম, মোহাম্মদ মহসিন ও মিনারুল চাকলাদারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। রিসোর্টের মালিকানায় জসীম উদ্দীন মন্টুর চার শতাংশ, জি কে শামীমের দুই শতাংশ এবং অন্যদের একশতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। বলে জানা গেছে।

অংশীদারদের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা হচ্ছে পুলিশ ক্যাম্পরিসোর্টটির অন্যতম পরিচালক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন মন্টু যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের শেয়ারের কথা স্বীকার করে ব‌লেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ‌জি‌ কে শামীম এই প্রকল্পে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তবে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টটিতে বিনিয়োগ দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্যাংককের প্রকৌশলীরা রিসোর্টের ডিজাইন করেছেন। মূল কাজের দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। রিসোর্টটিতে আধুনিক সুইমিং পুল, বিভিন্ন রাইডার, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও স্পা ছাড়াও পাঁচ তারকা মানের হোটেলের নানা সুবিধা থাকবে।’

স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়টি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন মন্টু বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে পাহাড়ি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জায়গাগুলো কেনা হয়েছে। কোনও জায়গা দখল করা হয়নি বরং স্থানীয় পাহাড়িদের আরও কীভাবে সুবিধা দেওয়া যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এই রিসোর্টের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তের পরই প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’