১৪ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির তিন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন

বান্দরবান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে তিন‌টি ইউনিয়ন প‌রিষ‌দে ১৪ অক্টোবর (সোমবার) নির্বাচন অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে। ইউনিয়নগু‌লো হ‌চ্ছে নাইক্ষ্যংছ‌ড়ি  সদর, সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম। এই নিবার্চনে বিএনপির কোনও প্রার্থী অংশগ্রহণ করেননি।

প্রতীক বরাদ্দের পর থে‌কে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটারদের মাঝে কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। তবে কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মন জয় করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটাররা বলছেন, বিএনপির কোনও দলীয় প্রার্থী না থাকায় লড়াইটা শুধু আওয়ামী লীগের মধ্যেই হচ্ছে। এ জন্য মা‌ঠে কোনও নির্বাচ‌নের আমেজ নেই।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গে‌ছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ১২৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৫ হাজার ৪৬৭ জন এবং পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৬৫৬ জন। ঘুমধুম ইউনিয়নে মোট ভোটার ৯ হাজার ৩০১ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৬১৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬৮২ জন। সোনাইছড়ি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ হাজার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৭২৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৭৭৫ জন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবছার চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। এ ইউনিয়নে সদস্য প‌দে ১১ জন নারী ও ২৯ জন পুরুষ প্রার্থী রয়ে‌ছেন।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউ‌পি চেয়ারম্যান বাহান মারমা ও সাধারণ সম্পাদক এ্যানিং মারমা চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা সম্পর্কে দাদা-নাতি। এ্যানিং মারমা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। সেখানে সদস্য পদে ৭ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদ আহমেদ ও সালেহ আহমেদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে‌ছেন। সেখান সদস্য পদে ১০ জন নারী ও ৩৫ জন পুরুষ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ কুশল বিনিময় করছেন। কেউবা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

কথা হয় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা নুরুল আবছার ব‌লেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হলে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা গ্রামের ভোটার নূর হো‌সেন বলেন, ‘প্রার্থীরা ভো‌টের আগে অনেক প্রতিশ্রুত দেন। কিন্তু ভো‌টের পর আর খবর থাকে না। তাই দে‌খে শুনে ভোট দেব।’

অন্য দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরাও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাত-দিন চলছে প্রচারণা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসনের যাবতীয় প্রস্তু‌তি শেষ হয়ে‌ছে। ১৪ অক্টোবর নির্বাচনকে ঘিরে নাইক্ষ্যংছড়ির তিন ইউনিয়নে ১০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দিবেন। এ ছাড়াও ৪ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ৯টি দল ও র‍্যাবের ৬টি দল টহলে থাকবে। পাশাপাশি বহিরাগত ঠেকাতে পুলিশের ১২টি অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসবে।