পান্নাকে মেডিক্যালে ভর্তির টাকা দেবেন চাঁদপুরের ডিসি

পান্না আক্তারটাকার অভাবে মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল  চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের পান্না আক্তারের। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি পুরো টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে  এক মত বিনিময়কালে তিনি একথা জানান।

পান্না ২০১৯ সালে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করে। মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৬৭২তম স্থানে আসায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পায় সে।

পান্নার বাবা মো. দুলাল একজন রিকশাচালক। মা কোহিনূর বেগম অন্যের বাসায় কাজ করেন। তিন বোনের মধ্যে পান্না সবার ছোট। তার অদম্য ইচ্ছাতে ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পান। ভর্তির সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে তার মেডিক্যালে ভর্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান পান্নার শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে রায়চোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন,  ‘আমাদের স্কুলে প্রাইমারি লেভেল শেষ করেছে সে। তার কৃতিত্বে আমরা আনন্দিত। কিন্তু তার বাবা একজন খুবই গরিব। রিকশা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে। বিত্তবানদের সহযোগিতায় মেয়েটি যদি উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করতে পারে তাই আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, যেকোনও প্রয়োজনে ০১৮৩১-৪০১২৭২ যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান বলেন,  ‘ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে চান্স পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি হতে যত টাকা লাগবে তার পুরোটাই জেলা প্রশাসন দেবে। এছাড়া সে যে কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে আমি সেই কলেজের সভাপতি হিসেবে পরবর্তীতে আরও সহযোগিতা করবো। তার মেডিক্যালের ছয় বছরের পড়ালেখার পুরো টাকা সহযোগিতা না করতে পারলেও আমরা সহযোগিতা করবো।’

প্রসঙ্গত, পান্নার উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনার সব খরচ বহন করেছে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। তার কোচিং চলাকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছিল একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলাল ও তার স্ত্রী সহকারী অধ্যাপক বিলকিছ বেগম।