নুসরাতকে যৌন হয়রানির মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ১৩ নভেম্বর

নুসরাত জাহান রাফিআলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলার  সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর ওই মামলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (২৭ অক্টোবর) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।  ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।’

আদালত সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে একমাত্র আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ অক্টোবর মামলার বাদী ও নিহত নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু, বিচারক ছুটিতে থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৩ নভেম্বর করা হয়েছে।

মামলার একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা বর্তমানে নুসরাতকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ফেনী কারাগারে।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম বাংলা টিবিউনকে বলেন, ‘২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। পিবিআই ৯৬ দিনের মাথায় ৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ডাক্তার ও পুলিশসহ মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়।’

প্রসঙ্গত, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মেয়েকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। একইদিন নুসরাতের মা শিরিন আখতার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম কায়সারের আদালতে  জবানবন্দি দেন। মামলাটি তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সিরাজ উদ দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।