শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দ্রুত প্রকৌশল ভবন বিভাগসমূহকে হস্তান্তর, পর্যাপ্ত সুবিধাসম্পন্ন ল্যাব প্রদান, শিক্ষক সংকট নিরসন, আইসিটি মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত দুটি ল্যাবের সুষম বণ্টন এবং মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষকের মন্তব্য প্রত্যাহার।
আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আল বোখারী বলেন, ‘সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ হতে বারবার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনও সমাধান হয়নি। আইসিটি বিভাগে চলমান ৭টি ব্যাচের বিপরীতে শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র একটি। প্রতিবছর নতুন ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে কিন্তু শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক সংকটের কারণে যথাসময়ে বের হতে পারছে না। এর জন্য নিয়মিত কোর্স শেষ করতে না পেরে প্রতিটি ব্যাচ সেশন জটে ভুগছে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষক অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, ‘আমাদের দাবিগুলো নিয়ে কিছুদিন আগে রেজিস্ট্রার স্যারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তখন সেখানে উপস্থিত মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মেহেদী হাসান আমাদের বলেন, যেহেতু তোমাদের এত সমস্যা, সেহেতু ভালো না লাগলে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে সিসিএনে (কুবির পাশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) চলে যাও। আমরা তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
তবে এ ধরনের কোনও মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন রেজিস্ট্রারের কক্ষে উপস্থিত ছিলাম অন্য একটি কাজে। তখন রেজিস্ট্রার স্যারের অনুমতি নিয়েই দাবি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি কথা বলি। সমস্যা সমাধানে কিছু প্রস্তাবনাও দেই। মূলত আমি বাসের শিডিউল এগিয়ে এনে শ্রেণিকক্ষের ওপর চাপ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আর বলেছিলাম যেহেতু আমাদের ল্যাব সংকট তাই পৃথিবীর অনেক দেশের মতো আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদের ভাল ল্যাব আছে তাদের সাথে সম্মিলিত হয়ে কাজ করতে পারি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগটি উঠেছে ভুল বোঝাবুঝিরে কারণে, আমার কথা তারা বুঝতে ভুল করেছে।’
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান শেষে আমার কাছে লিখিত দাবি উপস্থাপন করেছে। আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিটি দাবির সঙ্গে আমি একমত। শিগগিরই তাদের জন্য ক্লাস ও ল্যাব বরাদ্দে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আজ রাতের মধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ২টা ক্লাস ও ল্যাবের কাজ শেষ করতে বলেছি। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বসবো।’
শিক্ষকের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘শিক্ষার্থীরা সেদিন তাদের দাবি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। এসময় অন্য কোনও শিক্ষকের অযাচিত মন্তব্য করা অনুচিত।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত না থাকায় প্রক্টরের আশ্বাসে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।