জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর অস্থায়ী হিসেবে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলার একটি ইউনিটে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। সেখানে কয়েকটি কক্ষের মধ্যেই করা হয় অধ্যক্ষের কার্যালয়, অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষ। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পায়। এরমধ্যে ৩৮ জন ছাত্রী ও ১২ জন ছাত্র। এ বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে তাদের ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই চলছে এসব শিক্ষার্থীর পাঠদান।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োক্যামেস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে একটি কক্ষে। বিভাগ তিনটির জন্য ৩টি ল্যাব ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে আর কিছুই নেই। স্টুডেন্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো লাইব্রেরি। লাইব্রেরির নামে একটি রুম থাকলেও সেখানে কোনও বই নেই। খেলাধুলার সুযোগ তো
দূরের কথা, নেই কোনও কমনরুমও। দূরের শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আবাসিক কোনও হোস্টেলও নেই। তারা থাকছেন হাসপাতালের কোয়ার্টারে। উপরন্তু দ্বিতীয় ব্যাচের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে চিন্তিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাখাওয়াত হোসেন রাহী বলেন, ‘আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। বহুল কাঙ্ক্ষিত ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়ায় পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ক্যাম্পাস প্রয়োজন।’
শিক্ষার্থী রাব্বী বলেন, ‘কলেজ প্রতিষ্ঠার এক বছর হয়ে গেলেও আমরা কোনও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। আবাসন সমস্যা রয়েছে। হোস্টেলে খাবারের ব্যবস্থা নেই। সেখানে টেবিল-চেয়ারও নেই। কলেজে নতুন আরেকটি ব্যাচ আসছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে তারাও অনেক সমস্যার মধ্যে পড়বে।’
আরেক শিক্ষার্থী অয়ন্তী রাব্বানী বলেন, ‘নতুন ক্যাম্পস নির্মাণের জন্য লোকেশন দেওয়া হলেও ক্যাম্পাস তৈরির কাজ এখনও শুরু হয়নি।’
মেডিক্যাল কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জামাল সালেহ উদ্দীন বলেন, ‘একটি মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ-সুবিধার প্রধান হলো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। আমাদের ক্লাসের যেসব সুবিধা থাকা দরকার সেগুলো মোটামুটি আছে। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রচুর লাইব্রেরি ওয়ার্ক করতে হয়—সেটি এখনও আমরা চালু করতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে পারিনি। কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজের জন্য অডিটোরিয়ামের প্রয়োজন হয়। এছাড়া হোস্টেল ফ্যাসিলিটিজ আমাদের খুবই সীমিত। আমাদের নিজস্ব কোনও হোস্টেল নেই। হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারের খালি রুমে স্টুডেন্টদের অ্যাকোমোডেট করেছি। কিন্তু এটা একটু কনজাস্টেড হয়ে যায়। তারপর ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা কমনরুম নেই। এগুলো কিছুই দিতে পারিনি।’
অধ্যক্ষ বলেন, ‘কলেজের নতুন ক্যাম্পাসের জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য ৩২ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাস নির্মাণে প্রকল্পও তৈরি হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ প্রকল্প যাওয়ার পর কিছু ভুল পাওয়া গেছে। সে কারণে তারা আবার ফাইলটি স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে সংশোধিত হয়ে আসার পর এটি আবার পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে যদি কোনও সমস্যা না ধরা পড়ে তবে ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই পাস হয়ে যাবে। এরপর ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু হলে আর সমস্যা থাকবে না। তবে সেটি হতে সময় লাগবে।’
প্রসঙ্গত, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১ এপ্রিল চাঁদপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানে একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরপর দ্রুতই কলেজটি অনুমোদন পায়।