বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের উত্তরপাশে অবস্থিত ব্যায়ামাগারটির উদ্বোধন করেন। ব্যায়ামাগারের জন্য প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭টি ব্যায়ামের যন্ত্র কেনা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই শাখা ছাত্রলীগের সদস্যরা ব্যায়ামাগারটিতে নিজেদের দলীয় স্টিকার সংবলিত টেবিল এবং চেয়ার প্রবেশ করান। পাশাপাশি এটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে ব্যায়ামাগারের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।
ব্যায়ামাগারের সুবিধাবঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম ইনজামাম জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি একটি ব্যায়ামাগার খোলা হলেও সেখানে প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যায়ামের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত জায়গাও নেই।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে ব্যায়ামাগারটি প্রায়শই তালাবদ্ধ থাকে। এর চাবি থাকে শুধু শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের কাছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কারও কাছে এর চাবি নেই।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, ‘প্রশাসন থেকে ব্যায়ামাগার পরিচালনার কোনও নির্দেশনা বা কোনও চাবি আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে শুধু এর জিনিসপত্র কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং আমি বাজেটের আলোকে তা কিনে দিয়েছি। বাদবাকি কে, কীভাবে ব্যায়ামাগার চালাচ্ছে আমার জানা নেই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘এমনিতেই গাদাগাদি এবং তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যায়ামাগারে কর্তৃত্ব দেখে আর ওখানে যাওয়ার আগ্রহ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগার কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের অফিস কীভাবে হয়, তা আমার বোধগম্য নয়।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের কার্যালয় না, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামও (ব্যায়ামাগার) না। আমরা কিছু ছেলে আবেদন করে, প্রশাসনের মাধ্যমে জিমের জন্য কিছু জিনিসপত্র আনিয়েছি। এটা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজের লোকদের লেবার শেড হিসেবে তৈরি হয়েছিল। পরে আমরা এটাকে জিম করে দিতে বলেছি। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই আসে, খেলে, ব্যায়াম করে। আর আমরা এটা পর্যায়ক্রমে নিজেদের ছেলেদের দিয়ে পাহারা দিয়ে রাখি। না হয় জিমের জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাবে।’
ব্যায়ামাগারের জিনিসপত্র পাহারার দায়িত্ব ছাত্রলীগের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যায়ামাগারের জন্য লোক দেয় না, তাই আমরা এটা নিজেরাই পাহারা দিচ্ছি। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জিমনেশিয়াম, যেটা আমরা পাহারা দেওয়ার কারণে কোনও জিনিস হারায়নি।’
যখন-তখন ব্যায়ামাগার বন্ধ রাখেন এবং খোলেন, এতে করে শিক্ষার্থীরা ব্যায়ামাগারের সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টা খুলে দিয়ে চলে গেলে তো জিনিসপত্র চুরি যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগারকে ছাত্রলীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘ব্যায়ামাগার অবশ্যই ছাত্রদের জন্য। তবে ছাত্রলীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই।’