শুক্রবার (২০ মার্চ) জেলা শহরের দাতিয়ারা ফারুকী পার্ক সংলগ্ন সরকারি কর্মকর্তাদের ডরমেটরিতে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ২৫০ থেকে ৩০০ লোকের সমাগম হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও আপ্যায়ন পর্বে যোগ দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ফায়েজুর রহমান, গাইনি চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার, মেডিক্যাল অফিসার সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আজহারুর রহমান ও খোকন দেবনাথ। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিকাল ৩টার পর সিভিল সার্জনের সরকারি বাসভবনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া বিয়ে বাড়িতে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিথি স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা জানান, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে বিশাল আয়োজন। মূল গেটের ভেতরে ফুল দিয়ে একটি ছোট তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। আর বাড়ির ভেতরে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। ৮-১০টি বিশাল ডেগে চলছে রান্না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ‘গত পাঁচ দিন আগে থেকে শুনেছি বিয়ের আয়োজন চলছে। আজ সিভিল সার্জন তার মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিব্রত, এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
সিভিল সার্জন শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক মাস আগেই বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল। আমি কি মেয়ের বিয়ে দেবো না? বৃহস্পতিবার মেয়ের গায়ে হলুদ হয়েছে। আজ বিয়ে হয়েছে। আমরা ১০ ভাই বোন। তাদের ছেলেমেয়ে ২৭ জন। কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনও আছেন। পরিবারের অনেক সদস্য ও বিশিষ্টজনদের দাওয়াত দিতে পারিনি। বাবা হয়ে কীভাবে মেয়ের বিয়ে বন্ধ করি?’
জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ‘আইন সবার জন্যই সমান। তিনি এই আয়োজন করে থাকলে উনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। করোনাভাইরাসের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলাতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। কেউই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’