কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পে বসবাস করে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। অনুপ্রবেশের শুরুতে চলাফেরা ও আচার-আচারণের পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লেও পরে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের অনেকেই ক্যাম্পের ভেতরে অলস সময় পার করতে দোকানপাট খোলা রেখে আড্ডা, এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে ঘোরাঘুরিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু, গত ৮ এপ্রিল বিকালে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে কক্সবাজারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে লকডাউন ঘোষণা করেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব তালুকদার। এর পর রোহিঙ্গাদের চলাচলে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক ও হতে গ্লাভস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠছেন তারা। একইসঙ্গে ক্যাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড এবং মাইকিং করে সচেতনতা সৃষ্টি করছে।
উখিয়া কুতুপালং ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (টিভি টাওয়ার) মাঝি মো. ইদ্রিস বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রথমে করোনার ব্যাপারে কোনও ধারণা ছিল না। অনেক রোহিঙ্গা পড়ালেখা জানেন না। তবে ক্যাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'
কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ বলেন, 'ক্যাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনও রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্ত হননি।'
উখিয়ার ২ নং বালুখালী ক্যাম্পে থাকেন মিনারা বেগম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা বের হই না। সন্তানদেরও বের হতে দিই না। স্বাস্থ্যসেবায় সন্তানদের হাত ধোয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সহকারী কমিশনার মো. সামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, ‘এ পর্যন্ত ঘুমধুম এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৩০ জনকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কার্যক্রমসহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রমের কার্যকারিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে এসব রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আসেন। সেখান থেকে আসার পর টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমি দখল ও ধ্বংস করে ক্যাম্প গড়ে তোলেন এসব রোহিঙ্গারা। মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করে আসছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।