করোনাভাইরাসের আতঙ্ক দূরে ঠেলে চাকরি বাঁচাতে ও পেটের তাগিদে কাজে যোগ দিতে ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা। যান চলাচল বন্ধ জেনেও সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব শ্রমিকদের রিকশা-অটোরিকশা করে বা পায়ে হেঁটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহীপালে এসে ভিড় করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকে গাদাগাদি করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ভ্যানে করে রওনা হয়েছেন।
নাজমুন নাহার নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক বলেন, আমাদের এখনও বেতন আসেনি। এখন যদি না যাই তাহলে বেতন পাবো না। তাই ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়েই যেতে হবে।
জাহেদুল নামে আরেকজন বলেন, গাড়ি নাই অনেক কষ্ট করে আমাদের যেতে হচ্ছে। তাছাড়া যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোও সুযোগ বুঝে ভাড়া অনেক বেশি নিচ্ছে। তবুও পেটের দায়ে কাজে যেতেই হবে। করোনার ঝুঁকি থাকলেও চাকরিটা তো বাঁচাতে হবে।
একাধিক শ্রমিক জানান, গার্মেন্টস খুলেছে বলে কারখানা থেকে ফোনে তাদের জানানো হয়েছে। না গেলে ছাঁটাই করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ হুমকি দিয়েছে, তাই কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মহাসড়কের ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজারে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন পরিবহন তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। নির্দেশনা না থাকায় তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য , করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৫ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এসময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান। বন্ধ ছিল পোশাক খাতও। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিজিএমইএ। তবে আপাতত দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিকদের শিল্পাঞ্চলে ফিরতে নিষেধ করেছে সংগঠনটি। কিন্তু ছুটি পেয়ে যারা গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন, তারা যে যেভাবে পেরেছেন ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন।