২ মে বুকে ব্যথা, জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন মোর্শেদ শিবলী (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী। ওইদিনই তার নমুনা নেওয়া হয়েছিল। এরপর সপ্তাহ চলে গেলেও পরীক্ষার ফল পাননি তিনি। এ নিয়ে শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, ‘এতদিনেও জানতে পারলাম না করোনা পজিটিভ না নেগেটিভ। যদি পজিটিভ হয়ে থাকে তাহলে তো এমনি মারা যাবো চিকিৎসা না পেয়ে।’
শিবলীর মতো প্রায় দু’শ জনের নমুনা চট্টগ্রাম ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে পড়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি। ফেনীর সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, লোকবল সংকটের কারণেই এ অবস্থা। তবে শিগগিরই নোয়াখালীতে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। তখন আর সমস্যা থাকবে না।
জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা ফেরদৌস করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পর তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়ায় উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এর আগে জেলায় যে সাত জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের রিপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে বলে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগে করেছেন।
গত ৬ মে যে দুই তরুণীর নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোট এসেছে তার স্বজনদের অভিযোগ, ২৯ এপ্রিল ফেনী থেকে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি তাদের নমুনা জমা দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা রিপোর্ট পায়নি। এর মধ্যে ভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি না জানার কারণে তাদের গোটা পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিতে থাকতে হয়েছিল । এছাড়া, নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়ার সময় থেকে ফল আসার আগ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীকে বাসায় বা সেবা কেন্দ্রে আইসোলেশনে রাখার নির্দেশনা থাকলেও ফেনীতে এর উল্টো চিএ দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়ার পর সন্দেহভাজন রোগী জনসমাগমস্থলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন জমায়েতেও উপস্থিত হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ফেনীর সিভিল সার্জন সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংগ্রহ নমুনা তাক্ষণিকভাবে জেলা থেকে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে বিভাগের সব কয়টি জেলা থেকে সংগ্রহকৃত নমুনা পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে। তাদের জনবল সংকটের কারণে ফলাফল জানতে একটু সময় বেশি লাগছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নোয়াখালীতে নমুনা পরীক্ষা শুরু হলে এই সমস্যা আর থাক থাকবে না।
ফেনী স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক ডা. সরফুদ্দিন মাহমুদ দেওয়া তথ্য মতে, ৮ মার্চে পর থেকে জেলায় ৫৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮মে পযন্ত ৩৮৯ জনের রিপোট এসেছে। এখনো রিপোর্ট আসেনি ১৯৪ জনের।