চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। তার নাম শওকত হোসেন। শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বন্দুকযুদ্ধে ওসিসহ বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ১০টি কার্তুজের খোসা, একটি রামদা ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শওকত হোসেন উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের খলিল তালুকদার বাড়ির হাছি মিয়ার ছেলে।
ওসি আব্দুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাছির হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর শওকত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাছিরকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে এবং তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শনিবার রাতে শওকতকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাই। অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার পথে উপজেলার চরণদ্বীপ বড়ুয়াপাড়া বালুরঘাট এলাকায় সন্ত্রাসী শওকত হোসেনের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শওকত হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আশপাশে এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাছির হত্যায় জড়িত আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার স্থানীয় এক ধনাঢ্য ব্যক্তির জাকাতের পণ্য বিতরণের সময় কথা কাটাকাটির জের ধরে নাছির এবং শওকত হোসেন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নাছির ও তার বাবা গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাছিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত নাছিরের ভাই জয়নাল বাদী হয়ে থানা হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ ওইদিন রাতেই শওকতকে গ্রেফতার করে।