বিএনপি গণতন্ত্রের মানে বোঝে না: আইনমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বিএনপি নেতারা কথা বলতে পারেন বলে বন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন দেশে গণতন্ত্র নেই। আপনাদের সময় তো দেশে ছিল বন্দুকতন্ত্র। আপনারা গণতন্ত্রের মানেই বোঝেন না। আপনাদের সময় মানুষ খুন হতো। খুনিরা প্রকাশ্যে হেঁটে বেড়াতো।’

সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বুঝতে পারেন পাকিস্তানের স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করবে না। তারা শাসক হবে, বন্ধু হবে না। তখন বঙ্গবন্ধু দুটি ধারা চালু করেন। একটি ছাত্র-যুবদের নিয়ে এবং অন্যটি রাজনৈতিক দল। তিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন সেটাই ভাগ্য পরিবর্তনের পথ। রাজমিস্ত্রি যেমন বাড়ি বানাতে একটা একটা ইট গাঁথেন, সেভাবেই ছাত্রলীগকে গড়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। ছাত্রলীগকে যোদ্ধা বানিয়েছেন। লেখাপড়া করতে বলেছেন। তেমনি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেও শিখিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এতটাই সম্পৃক্ত ছিলেন যে, কেউ তাঁকে দাবায়ে রাখতে পারেনি। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, বাঙালিকে কেউ দমায়ে রাখতে পারে না।’

আনিসুল হক বলেন, ‘১৫ আগস্ট যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করা হতো, তাহলে বাংলাদেশের ছবি অন্যরকম হতো। আমরা ভাগ্যবান, সেই কালোরাতে দুই বোন (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) দেশে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা ও মানবতাবিরোধীদের বিচার করেছেন। সাজা কার্যকর করেছেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন জনগণের টাকায়। ভিক্ষা আনেননি। ঋণ নেননি। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোড মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন। সেই কারণে সোনার বাংলা হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।’

তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা ছাত্রলীগ করেন, পড়াশোনা করবেন। আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার আদর্শ কী ছিল শিখবেন। আগামীর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যাবেন, আপনাদের সেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষিত হয়ে সমৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে শেখ হাসিনার লক্ষ্য।’

উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আফজাল হোসেন রিমনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের পরিচালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া জীবন, কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম.এ. আজিজ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মানিক প্রমুখ।