চসিকের ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি শাহাদতের

সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ফল পাল্টে দিয়ে ভোট লুটের মহাউৎসব উল্লেখ করে এ নির্বাচন বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনি ফলাফলের নির্ধারিত প্রিন্টেট কপির পরিবর্তে সাদা কাগজের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছেমত ফলাফল লিখে নৌকার প্রার্থীকে অস্বাভাবিক ভোট দেখিয়ে বিজয় ঘোষণা করায় ইসির বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর একটায় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের নানা অনিয়ম তুলে ধরেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই নির্বাচনে ধানের শীষের বিপরীতে নৌকার প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮, আর ধানের শীষের ভোট ৫২ হাজার ৪৮৯টি। তিন লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে। রাত পৌনে ২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেল, এই নির্বাচনে মাত্র সাড়ে ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজেরাই দেখেছেন ভোটের দিন নগরীর প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কী ভাবে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সকাল থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। জেলার মীরসরাই, বোয়ালখালী, রাউজান, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

এসব বহিরাগতের অনেকে প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় তারা ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেরা ইভিএম মেশিনের বোতাম টিপে নৌকার ভোট নিশ্চিত করেছে। আইন শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার পর ব্যালট প্যানেলে নৌকার প্রতীকে নিজেরাই চাপ দিয়ে দেয়। অনেক থানার ওসি নির্দেশে মেয়র প্রার্থীর জন্য রক্ষিত ইভিএম মেশিন ভোটকেন্দ্রের গোপন বুথ থেকে বাইরে এনে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করার নজির সৃষ্টি করেছে। 

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে সরকারের নীলনকশার অংশ হিসেবে প্রতিটি থানায় বিএনপি নেতা-কর্মী ও ধানের শীষের সমর্থক এবং এজেন্টদের বিরুদ্ধে আজগুবি মামলা দায়ের করা, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি, বিনা কারণে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দায়ের করার মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর,  দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, উপস্থিত ছিলেন।