কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়েতে এক মাসের মধ্যে দুই দফায় যাত্রীবাহী ট্রেনের গার্ডরুম থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে গার্ডের রুমে ঢুকে কারা সিন্দুকের সিল ভেঙে এসব টাকা সরিয়েছে তা বলতে পারেননি ট্রেনের দায়িত্বরতরাও। তবে চাকরি বাঁচাতে তারা সে টাকা নিজের ব্যবস্থাপনায় জোগাড় করে কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এজন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা যাচাইসহ অভিযোগ দুটির নানা দিক খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তবে থানায় দেওয়া হয়নি কোনও অভিযোগ, মামলাও হয়নি কোনও। এখনও জমা পড়েনি কোনও তদন্ত প্রতিবেদন। শুধু লাকসাম রেলওয়ে নিরাপত্তা চৌকির এক হাবিলদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, চুরির ঘটনায় কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়নি, মামলাও করেনি কেউ। তবে রেলওয়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অবশ্য গণমাধ্যমের কাছে তারা এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের মাইজদী কোর্ট, মাইজদী ও নাথেরপেটুয়া স্টেশনে টিকিট বিক্রির ৯২ হাজার ৭০০ টাকা গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী সমতট এক্সপ্রেস ট্রেনে সিন্দুকে ঢুকিয়ে সিলগালা করে তা লাকসাম স্টেশন মাস্টার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে লাকসাম স্টেশন মাস্টার সিন্দুকটি গার্ডের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে আসা চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনের দায়িত্বরত গার্ড চট্টগ্রাম পে অ্যান্ড ক্যাশ অফিসে এটি বুঝিয়ে দিতে গেলে দেখতে পান সিন্দুকটির তালা ভাঙা। সিন্দুকে নেই টাকা। এ ঘটনায় ৩০ ডিসেম্বর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে, একই কায়দায় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সমতট এক্সপ্রেস নোয়াখালী থেকে ট্রেনের গার্ড রুমের লকারে তিনটি ব্যাগে থাকা ৫৮ হাজার ৯৮৮ টাকা সিলগালা করে তা লাকসাম স্টেশন মাস্টার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লাকসাম স্টেশনে সিন্দুকটি গ্রহণ করতে গেলে স্টেশন মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টরা সিন্দুকের সিলে বাঁধা সুতা ছেঁড়া ও তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা এসে সিন্দুকটি খুলে দেখেন এর ভেতরে কোনও টাকা নেই।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং ২৮ জানুয়ারি ২য় দফায় ৫৮ হাজার ৯৮৮ টাকা খোয়া গেছে। এ দুটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান আছে। যাদের দায়িত্ব অবহেলায় টাকা খোয়া গেছে তারা নিজ থেকে এ টাকা জমা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী মন্তব্য করেন, সংশ্লিষ্টরা রেলের টাকা নিজেদের সুবিধামতো কোষাগারে জমা দেন। এভাবেই গায়েব হয়ে যায় রেলের টিকিট বিক্রির লাখ লাখ টাকা।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দীন চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিইউ) তারেক মাহমুদ এমরানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিটি টাকা চুরির ঘটনা তদন্ত করছেন। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন, সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) মনির হোসেন, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও অ্যাকাউন্ট) সিরাজুল ইসলাম ও নিরাপত্তা বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট কমান্ডেট (এসি) সত্যজিৎ দাস।
লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর টাকা চুরির ঘটনা শুনেছি তবে এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় কোনও অভিযোগ বা মামলা হয়নি।