কুমিল্লার সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ঢুকে দিনের বেলায় কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলিল ঘষামাজার মামলায় নাজমুল হোসেন (৩৯) নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গ্রেফতারের পর বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার নাজমুল কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে। এর আগে এই মামলার অন্যতম আসামি সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখক আবুল বাসার সাজ্জাদ (৪০) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে কুমিল্লার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক ইরফান আহমেদ সাজ্জাদকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। সাজ্জাদ কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে গত ৭ (ফেব্রুয়ারি) আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম জানান, গত বছরের (১২ নভেম্বর) এই ঘটনায় মামলা হয়। কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় দলিল লেখক আবুল বাসার সাজ্জাদের (৪০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলা হয়। কুমিল্লার সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবদুস সামাদ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব কুমিল্লা সিআইডিকে দেওয়া হয়। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, অভিযুক্ত সাজ্জাদ এবং তার সহকারী নাজমুলসহ আরও চার জন জড়িত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিন বেলা ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দলিল লেখক মো. আবুল বাসার সাজ্জাদ ও অজ্ঞাত আরও কয়েক ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটায়। তারা যেই দলিলে ঘষামাজা করে সেটি একটি আমমোক্তারনামা দলিল, যা ওই বছরের ১৩ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। এতে দলিলের প্রকৃতি পরিবর্তনসহ ৯ নম্বর পাতার বিভিন্ন বিষয় সংযুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: অস্ত্র ঠেকিয়ে রেকর্ড কক্ষে ঢুকে দলিল ঘষামাজার অভিযোগ