কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নতুন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং এর সহযোগী সংস্থা প্রত্যাশী। জাপান সরকারের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রটি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইওএমের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার তারেক মাহমুদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইওএমের নয় মাসব্যাপী ‘প্রত্যেকের জন্য জীবিকা উন্নয়ন (লাইফ)’ প্রকল্পের আওতায় এই কেন্দ্রটির লক্ষ্য উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়িয়ে এবং আয়ের নানা উৎস তৈরি করে স্থানীয় অর্থনৈতির স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা।নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার ফলে এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সুযোগের সন্ধান করতে করতে এই অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের পাশাপাশি প্রকল্পটি যুবক, পাচারের শিকার, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতায় বেঁচে যাওয়া এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিদের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি বাজারের চাহিদা মেটাতে গৃহস্তরের জীবন-জীবিকার উদ্যোগের মাধ্যমে এবং সম্ভাবনাময় সমবায়ের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নেরও চেষ্টা করছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় নতুনভাবে চালু হওয়া কেন্দ্রটি অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসায় বিকাশ, ক্রাফট, সূচিকর্ম, সেলাই, ইত্যাদি প্রশিক্ষণে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত।
এই প্রকল্পের আগে হ্নীলার বাসিন্দা রিনা পারভিন জীবিকার জন্য লড়াই করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন কেন্দ্রের কথা শুনে দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী হই। আমার সেলাইকাজের দক্ষতা ছিল, তবে তা পেশাদারি পর্যায়ে ছিল না। এখন আমি উৎপাদন করতে এবং আমার ক্রেতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছি।’
স্থানীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ পল্লী’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি পণ্যগুলো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা জুড়ে দোকান এবং আউটলেটগুলোতে বিক্রি হবে। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রতিষ্ঠানটি সব অংশগ্রহণকারীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে এবং বাজারে অভিগম্যতায় সাহায্য করবে।
সুবিধাভোগীদের পরামর্শ, অসুবিধা ও সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সভা, কৌশলগত কর্মশালা এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হবে। তৈরি পণ্যগুলো কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে এবং স্থায়ীভাবে একটি ই-বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হবে।
আইওএম কক্সবাজারের ট্রানজিশন ও রিকভারি ইউনিটের প্রধান প্যাট্রিক শেরিগনন বলেন, ‘টেকনাফের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বৈধ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উপযুক্ত দক্ষতা এবং যে উদ্যোক্তা শিক্ষার প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার জন্য লাইফ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এই জনগোষ্ঠীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সুযোগ দিতে পারি।’