হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা দায়ের নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিন যাওয়ার পরেও মামলা করা-না করা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলছে না পুলিশ। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই ঘটনায় হাটহাজারী থানায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলা বিষয়ে জানতে বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে হাটহাজারী থানার ওসি, পরিদর্শক তদন্তের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এরপর ডিউটি অফিসারের মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি। তথ্য না দিয়ে উল্টো এই প্রতিবেদকের সঙ্গে বিরক্তি প্রকাশ করেন ডিউটি অফিসার।
থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ দৌলা রেজার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।
এছাড়া হাটহাজারী সার্কেলের এএসপিকে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনিও কল রিসিভ করেননি। ভাইয়া
তবে এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় মামলা বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানিয়েছিলেন, হাটহাজারীর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
এদিকে দায়িত্বশীল সূত্র মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৬ মার্চ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নাজির একরামুল হক শিকদার এবং সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আক্তার কামাল চৌধুরী বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। অন্যদিকে হাটহাজারী থানায় হামলা, পুলিশের কাজে বাঁধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় কাউকে নাম উল্লেখপূর্বক আসামি করা হয়নি। এই ছয়টি মামলায় মোট কতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে সেটিও নিশ্চিত জানা যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে ছয় মামলায় অন্তত দেড় হাজার হেফাজত নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।