‘অনেকে হেলিকপ্টার হুজুর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন’

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অতিক্রম করছি। আমাদের দেশে আগে হুজুররা রিকশায় যেতে পারতেন না। এখন অনেকের গাড়ি হয়েছে। অনেকে হেলিকপ্টার হুজুর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে হয়েছে। এর অংশীদার আপনারা। দয়া করে এসব ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করুন।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হেফাজতে তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুড়িয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইজিপি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা পুলিশ কেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি—সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মাইকিং করে পুলিশের আত্মরক্ষার কৌশলকে অপেশাদার আচরণ বলে উল্লেখ করেন আইজিপি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, দেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি। এখানে ৫৭৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। ছাত্র সংখ্যা এক লাখ। এ জেলার লোক সংখ্যা ৩২ লাখ। আপনারা ৩২ লাখ লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন কেন? আপনারা বাসস্ট্যান্ড পুড়িয়ে দিয়েছেন, রেল স্টেশন পুড়িয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা করছেন। আমি মনে করি এগুলো শুভ লক্ষণ নয়।

পৌনে ১২টায় হেফাজতের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন শুরু করেন পুলিশ প্রধান।

প্রথমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন পরিদর্শন করেন। এরপর পৌরসভা কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের বঙ্গবন্ধুর ক্ষতিগ্রস্ত ম্যুরাল, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

এ সময় পুলিশ প্রধানের সাথে ছিলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের স্পেশাল শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)আনোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াদ উদ দৌলা খান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান প্রমুখ।