ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছেলের হাতে পিতা খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছেলের ছুরিকাঘাতে পিতা আবু কাউছার (৬০) নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু কাউছার ওই এলাকার জুরো মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আবু কাউছার প্রায় তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে মারধর করতেন। আজ বিকালে আনোয়ারাকে আবারও মাদকাসক্ত অবস্থায় মারধর করেন স্বামী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছোট ছেলে মাছ বিক্রেতা পিত্তিরাজ চৌহান পিতাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবু কাউছার। তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ হাসপাতালে ছুটে আসেন।

নিহতের বড় ছেলে শাহ্ইয়া চৌহান জানান, তার পিতা মাছ বিক্রেতা ছিলেন। প্রায় মাদকাসক্ত অবস্থায় তার মাকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই পিতার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। আজ বিকালে তার মাকে আবারও মারধর করেন পিতা আবু কাউছার। খবর পেয়ে ছোট ভাই (নিহতের ছেলে) পিত্তিরাজ চৌহান ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিতার শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবু কাউছার। এ ঘটনার পর থেকে পিত্তিরাজ চৌহান পলাতক রয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের কথা তুলে ধরে জানান, প্রায়ই স্বামী আবু কাউছার তাকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছোট ছেলে ছুরিকাঘাত করে তার বাবাকে হত্যা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে পুত্রের ছুরিকাঘাতে পিতা নিহত হয়েছে। আমরা ঘাতক পুত্রকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি। অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।