চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ এমপি। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে মানুষের মাঝে উসকানি দিয়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে এই অপকর্ম করেছে। যে যে-ই ধর্মেই বিশ্বাস করুন না কেন, কোনও সুস্থ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি কখনও অন্য ধর্মের ওপরে আঘাত হানতে পারে না। যেসব উশৃঙ্খল ব্যক্তি অপশক্তির প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা করেছে, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ হুইপ আরও বলেন, ‘মৌলবাদী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই মৌলবাদী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শক্তি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার হীন চেষ্টা শুরু করে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, আপনাদের কোনও ভয় নেই। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি।’ সিসি ফুটেজ দেখে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ স ম মাহবুব উল আলম লিপন, কচুয়া পৌরসভার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাইনুদ্দীন, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় হাজীগঞ্জে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৩০ জন আহত হন।