ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে পদ পেয়েছেন আবির মোহাম্মদ সোহাগ নামের এক ‘ছাত্রদল নেতা’। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনে পদ পাওয়ায় সোহাগকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৩ নভেম্বর) সকালে জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবির মোহাম্মদ সোহাগ কসবা উপজেলার ৭নং পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বহিষ্কার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে আবির মোহাম্মদ সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়েই আমার রাজনীতি শুরু। আমি বিএনপির কর্মকাণ্ডে কখনোই আমি ছিলাম না। কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতাদের স্বাক্ষরে আমি বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আসীন হই। এখন আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’
জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আবির ছাত্রলীগ করে বলে আমাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরী বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিটির বিষয়ে জেনেছি। আবির কোন কমিটির সময় ছাত্রদল করতেন তা জানতে দফতর সম্পাদককে ডাকা হয়েছে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর ৩৪৯ সদস্য বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ কমিটি অনুমোদন দেন সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। পরদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে সহ-সভাপতি ৯০, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ১১, সাংগঠনিক সম্পাদক ১১, উপ-সম্পাদক ১৩৬, সহ-সম্পাদক ৫৯ ও সদস্য পদে ৪০ জন স্থান পান। কমিটিতে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে।
এর আগে, ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনের প্রায় ৪৫ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পরপরই এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকেও। অভিযোগ রয়েছে- অছাত্র, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী আপন দুই ভাই, ছাত্রদলের নেতারা স্থান পেয়েছে এই কমিটিতে।