মেয়ে মাইশা (৭) ও ছেলে মিনহাজকে (৩) নিয়ে কুমিল্লার ভাটেরচর থেকে মেঘনা উপজেলা সদরের সড়ক দিয়ে হাঁটছেন জেসমিন আক্তার। মধ্য দুপুর। কোথাও কোনও গাড়ি নেই। সড়ক বন্ধ করে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের দিয়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন।
জেসমিন আক্তার জানান, ঢাকার সোনারগাঁও থেকে মেঘনা উপজেলার লুটের চরে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে যাচ্ছেন। ভাটেরচর সড়কের মাথায় বাস থেকে নামার পর দেখেন সড়ক বন্ধ। পুলিশ কাউকে গাড়ি নিয়ে মেঘনায় ঢুকতে দেয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, মেঘনা সদরের একমাত্র প্রবেশ পথে হঠাৎ যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ায় জেসমিন আক্তারের মতো অনেকে দুর্ভোগে পড়েন। ভাটেরচর থেকে মেঘনা উপজেলা সদর পর্যন্ত নয় কিলোমিটার সড়ক যানবাহনশূন্য।
মেঘনা উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকেই ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ কারণে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে হয়ে ভাটেরচর দিয়ে প্রবেশের পথ মেঘনা উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিল্লাল হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘উপজেলার বর নাথপুর যাচ্ছি। ভোট দিতে ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছি। এখন নয় কিলোমিটার সড়ক হাঁটছি, জবান দিয়েছি তাই। এমন অবস্থা জানলে আসতাম না।’
৬৫ বছর বয়সী জোহরা বেগম নাতি জোবায়েরকে নিয়ে ঢাকার হাজারিবাগ থেকে আসছেন। মাথায় ভারি ব্যাগ। যাবেন মেঘনা উপজেলা সদর। রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই। তীব্র রোদের মধ্যে হাঁটছেন।
মেঘনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায় বলেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের কারণে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশক্রমে এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।