দেশে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে বলে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তবে ওমিক্রন শনাক্তের পর থেকে মহামারির নতুন এ ধরন নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো- চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১১টি আরটিপিসিআর ল্যাব আছে। এসব ল্যাবের মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবেই ওমিক্রন শনাক্তের কিট আছে, তাও মাত্র ১০০টি। এখনও একটি কিটও ব্যবহার হয়নি। কাউকে সন্দেহ হলে পরীক্ষা করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেন-ক্রুরা নিয়মিত আসা যাওয়া করে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েও নিয়মিত দেশি-বিদেশি যাত্রী চলাচল করছে। এই অবস্থায় চট্টগ্রামে ওমিক্রন শনাক্তের ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাই বেড়েছে উদ্বেগ। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাঁচ বাংলাদেশি চট্টগ্রামে আসেন। তাদের কোয়ারেন্টিন সময় পার হলে পরীক্ষার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কারও ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া চট্টগ্রামের আর কোনও ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিট নেই। আমরা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় ওমিক্রন শনাক্তের জন্য ১০০টি কিট আমদানি করেছি। একটি কিটও এখনও ব্যবহার হয়নি। ব্যয়বহুল এই কিট আর আমদানি করাও সম্ভব না। আমরা এই কিট দিয়ে চট্টগ্রামে ওমিক্রন আক্রান্ত আছে কি-না তা নিশ্চিত হতেই মূলত এসব আমদানি করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যদি চট্টগ্রামে কেউ আসে এবং কাউকে যদি সন্দেহ হয় তার নমুনা দিতে বলা হয়েছে আমাদের ল্যাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ওমিক্রন শনাক্তের কোনও কিট নেই। আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ এলে তাদের মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের উপসর্গ থাকলে তাদের নমুনা ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানেই কিট আছে। ওমিক্রন শনাক্তের কিট এখনও আমাদের ল্যাবে নেই। চট্টগ্রামের বেসরকারি অন্য কোনও ল্যাবেও নেই। তবে ওমিক্রন শনাক্তের মতো প্রস্তুতি আছে আমাদের।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া জানান, চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের ল্যাবগুলোতে ওমিক্রন শনাক্তের কিট নেই। তাই বর্তমান কিটগুলো দিয়েই পরীক্ষা করতে হবে। ওমিক্রনকে করোনার শেষ ধাপ বলা হচ্ছে। এটা তেমন ভয়ংকর না এমনও বলা হচ্ছে। এটার জন্য পৃথক কিটের খুব প্রয়োজন পড়বে না। আরটিপিসিআর ল্যাবের বর্তমান কিট দিয়েই ওমিক্রন শনাক্ত সম্ভব।