দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২৬ মাস আগে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আনিসুল ইসলাম ও মাহমুদা খানম আঁখির বিয়ে হয়। বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যান আঁখি। নগরীর বেসরকারি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের সার্জিস্কোপ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য এবং অন্য নারীর সঙ্গে আনিসুলের প্রেমের সম্পর্ক জেনে ফেলায় আঁখিকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে আনিসুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগম।
আঁখির খালাতো ভাই এরশাদ হোসেন জানান, বিয়ে মেনে নিলেও তার ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করে আনিসুল। ছয় মাস ধরে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। কারণ, আঁখি আগে জানতে পারেন, অন্য এক নারীর সঙ্গে আনিসুলের সম্পর্ক রয়েছে। প্রথমে আঁখি মনে করতেন, এমনিতে কথা বলছে। পরে দেখেন ভিডিও কলেও অন্য নারীর সঙ্গে কথা বলে আনিসুল। এ নিয়ে কথা বলায় নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রথমে যৌতুকের জন্য আঁখিকে নির্যাতন করা হতো। পরে গত ঈদুল ফিতরে গরু না দেওয়ায় ঘরে আটকে রেখে ১৫ দিনের জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন অন্যত্র বেড়াতে চলে যায়। ফিরে এসে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ ১৩ ডিসেম্বর সন্তানসম্ভবা আঁখিকে প্রচুর মারধর করে এবং একপর্যায়ে পেটে লাথি মারে আনিসুল। এরপর আঁখির প্রসববেদনা শুরু হয়। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে মাকে বলেন, ‘আনিসুল লাথি মারার পর তার ব্যথা শুরু হয়েছে’। লাথিতে পিত্তথলি ফেটে যাওয়ায় আঁখির মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুর রহমান জানান, আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় তিন জনকে আসামি করে গত রবিবার রাতে মামলা করেছেন ছোট ভাই মিজানুর রহমান। আসামিরা হলো–আঁখির স্বামী আনিসুল ইসলাম (৩২), শাশুড়ি ফরিদা আক্তার (৫০) ও স্বামীর বড় বোন হামিদা বেগম (৩৪)।
এই মামলায় গ্রেফতার আইনজীবী আনিসুলকে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বাঁশখালী থানার উত্তর জলদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
বাদী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আনিসুল ইসলাম ও তার মা যৌতুকের জন্য প্রায় সময় আঁখিকে নানা কটু কথা বলতো। প্রায়ই আমাদের কাছে টাকা চাইতো। বাবা প্রবাস থেকে আমার বোনের সুখের জন্য অনেক টাকা পাঠাতো। কিন্তু কখনও ভাবিনি সে এভাবে স্বামীর নির্যাতনে মারা যাবে।’