সামুদ্রিক শৈবাল ও সবুজ ঝিনুক সারাবিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। পরিকল্পিতভাবে চাষ ও বিদেশে রফতানি করতে পারলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সামুদ্রিক শৈবাল ও সবুজ ঝিনুককে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। শৈবাল ও ঝিনুক চাষ জেলেসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের অন্যতম বিকল্প আয় হতে পারে। সামুদ্রিক শৈবাল ও সবুজ ঝিনুক চাষ বিষয়ে কক্সবাজারে শনিবার (১৯ মার্চ) এক সেমিনারে গবেষকরা এ কথা বলেন।
ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশ ও ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে পরিচালিত ইকোফিশ-২ অ্যাক্টিভিটির আওতায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে সামুদ্রিক শৈবাল ও সবুজ ঝিনুক চাষ এবং ব্লু ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামুদ্রিক শৈবাল ও ঝিনুক চাষি, ব্যবসায়ী, শেফ, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সামুদ্রিক শৈবাল ও সবুজ ঝিনুকের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ইমেরিটাস প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সাত্তার মন্ডল।
এতে সভাপতিত্ব করেন ইকোফিশ-২ অ্যাক্টিভিটির টিম লিডার প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাব। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মহা-পরিচালক ক্যাপ্টেন এম মিনারুল হক, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক, মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক (মেরিন) ড. মো. শরীফ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক চাষের সম্ভাবনা ও বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেন ও উদ্যোক্তা জাহানারা ইসলাম।
সেমিনারের পাশাপাশি ইকোফিশ-২ হোটেল প্রাঙ্গণে ব্লু ফুড ফেস্টিভ্যালেরও আয়োজন করা হয়। যাতে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট, উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষিত মৎস্যজীবী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, সামুদ্রিক শৈবাল এবং সবুজ ঝিনুক থেকে তৈরি খাবার ও প্রসাধনীসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।