সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশেই শনিবার (৩১ এপ্রিল) দেখা যায়নি শাওয়াল মাসের চাঁদ। তাই দেশগুলোতে ৩০ রোজা সম্পূর্ণ করে সোমবার (২ মে) ঈদ উদযাপন করা হবে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একইদিন চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
শনিবার এ তথ্য জানিয়ে সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীর মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। আজ মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মুসলিম বিশ্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ৩০ রোজা শেষ করে আমরাও তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবো।’
তিনি বলেন, ‘সোমবার সকাল ৯টায় সাদ্রা ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন এলাকাতেও ঈদের জামাত হবে।’
জানা গেছে, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা ৯৩ বছর ধরেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রায় ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। সাদ্রা ছাড়াও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এ ছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ছয় ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।