চমেক হাসপাতালে ভিড়, সংক্রমণের ঝুঁকিতে দগ্ধরা

সীতাকুণ্ডের বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। তবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্বজন ও উৎসুক লোকজনের ভিড়ে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত মানুষের কারণে দগ্ধ রোগীদের সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

তবে অযথা ভিড় না করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বার বার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে মানুষের ভিড়ের কারণে চিকিৎসাধীন রোগীদের সংক্রমণ ঘটতে পারে। যে কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো পুলিশ পাহাড়া বসাতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালে ভিড় বেড়ে গেছে। যে কারণে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন থাকলেই হবে। রোগীদের সাহায্যে যারা ওষুধ, নগদ অর্থসহ নানা কিছু দিয়ে সহযোগিতা করতে চান, তারা নিজে থেকে রোগীদের যেন না দেয়। এসব যেন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন।’

এরআগে, সোমবার (৫ জুন) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন আহতদের দেখতে এসে বলেন, ‘দগ্ধদের জন্য সবচেয়ে ভয়ের কারণ হচ্ছে সংক্রমণ। তাদের সংক্রমণ হলে কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব না। সেজন্য অযথা কেউ ভিড় করে তাদের ঝুঁকির কারণ হবেন না।’

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এক হাজার ৩১৩ শয্যার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে গড়ে আড়াই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকে। বুধবার সকালে বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে অনুমোদিত বেডের সংখ্যা ২৬টি। রোগী ভর্তি আছেন ৮৫ জন। একই অবস্থা হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও।