কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিশু আরাফাত হোসেনকে (১৩ মাস) পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনায় মা রোকসানা আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পরদিন চৌদ্দগ্রাম থানায় বুধবার (২০ জুলাই) মামলাটি করেন হত্যার শিকার শিশুটির মায়ের চাচা আনোয়ার হোসেন মজুমদার।
শুক্রবার (২২ জুলাই) বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা।
মামলার এজাহারে বাদী আনোয়ার হোসেন মজুমদার উল্লেখ করেন, সাত-আট বছর আগে বরিশাল জেলার হিজলা থানার হরিনাথপুর এলাকার আবদুল আজিজ মুন্সির ছেলে ইব্রাহিমের সঙ্গে রোকসানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই ইব্রাহিম রোকসানাকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি তার চাহিদা পূরণ করতে। তার এসব চাপের কারণে বিয়ের কয়েকদিন পরই রোকসানা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কারণে তাকে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি এবং বিভিন্ন মানসিক ডাক্তার দেখাই। সে সুস্থ হলে আবার ইব্রাহিমের বাড়িতে যায়। আবার ইব্রাহিম তাকে মানসিক চাপ দিলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে আমরা অনেকবার ডাক্তার দেখিয়েছি মেয়েকে। ১৩ মাস আগে তার কোলজুড়ে এক ছেলেসন্তান আসে। আমাদের বাড়িতেই রোকসানা ও তার ছেলে আরাফাত থাকতো। শেষবারের মতো রমজানের ২৭ তারিখে ইব্রাহিম আমাদের বাড়িতে আসে এবং রোকসানাকে তার বাড়ি বরিশাল নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর ইব্রাহিম ঈদ খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমরা ধার করে ৫০ হাজার টাকা তার জন্য পাঠাই। ঈদের পরই সে রোকসানাকে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং আবার টাকা চায়। সেইসঙ্গে মানসিকভাবে বিভিন্ন ধরনের চাপ দেয়। রোকসানা যখন ইব্রাহিমকে বলে সন্তানের ভরণপোষণ দিতে তখন মেরে ফেলতে বলে। এসব কারণে সন্তানকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করে রোকসানা। প্রতিবার স্থানীয়রা দেখলেও সর্বশেষ ১৯ জুলাই ছেলেটাকে পানিতে ফেলার সময় কেউ দেখেনি। সেদিন পানিতেই ফেলে শিশুটিকে হত্যা করে রোকসানা। এ হত্যাকাণ্ডে আমাদের মেয়ের সঙ্গে মেয়ের জামাইও সমান অপরাধী।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, রোকসানার চাচা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। রোকসানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার স্বামী ইব্রাহিমকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়ন বারইয়া গ্রামের আমান উল্লাহর মেয়ে রোকসানা আক্তার তার সন্তান আরাফাতকে অশ্বদিয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে হত্যা করে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী মানসিক সমস্যায় ভুগছিল।