চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাতে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা করে। মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪শ’ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সময় আটক পাঁচজনকে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার বিকালে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধারায় করা এসব মামলায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অজ্ঞাত আসামি ৩০০ থেকে ৪০০ জন।
তিনি আরও জানান, গতকাল বিএনপির একটি মিছিল থেকে যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তাদের বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবির, বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত এসএম আরিফুর রহমান, এসআই নজরুল ইসলাম, এএসআই নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল মিনহাজ উদ্দিন, মাইন উদ্দিন, বিপ্লব দে, আব্দুল কাদের ও মফিজ আলম।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাশঁখালী উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশ উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে করার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকে বাঁশখালীর প্রধান সড়কে বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। পরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধায় বিএনপির সমাবেশ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পশ্চিম গুনাগরীর বাড়ির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় ওই সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে ওঠার পর পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জ ও গুলিতে অন্তত ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।